ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় আপন বড় ভাই ও ভাবিকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী হনুফা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের শেরপুর এলাকার মৃত আমানত খানের ছেলে মো. স্বপন খান (২৫), তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগম (২২) এবং রতন খান (৩২)।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ভিটা বাড়িতে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটত এবং পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছিল। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের ওপর আক্রোশ পুষে রাখে। এরই জের ধরে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:০০টায় দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভুক্তভোগী হনুফার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
হামলাকালে ১ নম্বর অভিযুক্ত স্বপন খান লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে হনুফার ঘাড়ে লেগে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ছাড়া রতন খানের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কনুই জখম হওয়ার পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে প্রহার ও শ্লীলতাহানি করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে ভুক্তভোগীর স্বামী মো. লিটন খানের ওপরও চড়াও হয় অভিযুক্তরা। তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয় এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হনুফাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর স্বামীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মতামত