প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
১ জুলাই ২০২৬, দাউদকান্দী উপজেলার বারিয়ারা এলাকায় পাওয়ার টিলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজির একাংশ।
||
দাউদকান্দীর বারিয়ারায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: পাওয়ার টিলার ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন আহত, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনকনিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম সরকার রিফাতকুমিল্লা, ১ জুলাই ২০২৬: কুমিল্লার দাউদকান্দী উপজেলার বারিয়ারা এলাকায় আজ (বুধবার) আনুমানিক সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি পাওয়ার টিলার ও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হন। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটির এক পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চিৎকার-আর্তনাদে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় সিএনজিতে মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। চালকসহ সামনের আসনে থাকা তিনজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান এবং তারা তুলনামূলকভাবে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে পেছনের আসনে থাকা তিনজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের একটি পা এতটাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তা প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়। অপর দুইজনও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। আহত তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।জানা গেছে, আহত যাত্রীরা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা। তারা রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে কচুয়া উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দাউদকান্দী উপজেলার বারিয়ারা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাওয়ার টিলারের সঙ্গে তাদের বহনকারী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।দুর্ঘটনার পর সিএনজিটির অবস্থা দেখে সহজেই বোঝা যায় সংঘর্ষটি কতটা ভয়াবহ ছিল। গাড়ির এক পাশ সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং এর বিভিন্ন অংশ সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দ অনেক দূর থেকেও শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায়।এদিকে, এ দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল, ভারী ও হালকা যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং পর্যাপ্ত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি উঠেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি