প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
থামছে না যমুনার আগ্রাসন: ধুনটে শহড়াবাড়ি স্পারের ৩০ মিটার নদীগর্ভে, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
||
আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি :উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলেও ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের সামনের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয়রা জানান, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ফসলি জমি ও নদীতীরবর্তী বসতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে শহড়াবাড়ি এলাকায় যমুনার আকস্মিক ভাঙনে ভূমিসহ অন্তত ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনে।কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ১৯ জুন থেকে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে আবারও ভাঙন শুরু হয়। প্রবল স্রোতের আঘাতে সংরক্ষিত এলাকাতেও জিও ব্যাগ সরে গিয়ে নতুন করে তীর ভাঙছে। রোববার সকালে শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীপাড়ের জনবসতি।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী নদীশাসন বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুদিনের জন্য ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও প্রতি বছরই যমুনা গিলে খাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ফলে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তারা দ্রুত একটি টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।খবর পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। এগুলো ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এদিকে যমুনাপাড়ের মানুষের দাবি, অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়—যমুনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রুত একটি টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় যমুনার আগ্রাসনে নদীপাড়ের মানুষকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাতে হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি