প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
মরননেশা ক্যাসিনো আসক্তিতে চলে গেল এক তরুণ
||
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারে ক্যাসিনো আসক্তির করুণ পরিণতি: ক্যামেরা কেনার টাকায় জু'য়ায় হেরে তরুণ চরম পথ বেছে নেওয়া।একটি ক্যামেরা, হাজারো স্বপ্ন আর এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক্ষা-সবই শেষ হয়ে গেল অনলাইন ক্যাসিনোর মরণনেশায়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তন্ময় গোস্বামী (২২) নামে এক তরুণ ফটোগ্রাফারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২১শে জুলাই) সন্ধ্যায় পর পৌর শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তামিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।পরিবার সূত্রের বরাতে জানা যায়, পেশাদার ফটোগ্রাফার হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার বড় স্বপ্ন ছিল তন্ময়ের। ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণে অন্ধের মতো বিশ্বাস রেখে ক্যামেরা কেনার জন্য তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি বড় অঙ্কের অর্থ। কিন্তু সেই বিশ্বাস আর স্বপ্নের মাঝামাঝি কাল হয়ে দাঁড়ায় অনলাইন ক্যাসিনোর নীল দংশন।সহজে ধনী হওয়ার প্রলোভনে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাসিনোর জালে হারায় ক্যামেরা খরিদ করার পুরো টাকা। টাকা খোয়ানোর পর তীব্র অনুশোচনা, ঋণ ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মতো নির্মম পথ বেছে নেন এই তরুণ।“আজ হেরেছি, কাল হয়তো জিতব”-এই কাল্পনিক আশাই অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান হাতিয়ার। তথাকথিত এই ডিজিটাল জুয়া কোনো আয় কিংবা উপার্জনের পথ নয়; এটি এমন এক ধোঁকা ও মানসিক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের আর্থিক সঙ্গতি, আত্মমর্যাদা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত জীবনটাকেই গ্রাস করে ফেলে। তন্ময়ের করুণ পরিণতি আবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ক্যাসিনোর এই ভার্চুয়াল জগত কতটা বিধ্বংসী হতে পারে।এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রুহুল আমিন তালুকদার এর সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।শ্রীমঙ্গলের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং পুরো যুবসমাজের জন্য এক তীব্র সতর্কবার্তা। আজই সচেতন হোন, অনলাইন জুয়াকে 'না' বলুন এবং আপনার চারপাশের প্রিয় মানুষগুলোকে এই মরণনেশা থেকে সচেতনতার সাথে দূরে রাখুন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি