প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
ধুনটে যমুনার ভয়াল ভাঙন, হুমকিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নদীপাড়ের শত শত পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিবগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি স্পারের (বাঁধ) বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ যমুনার প্রবল স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর আগে গত ১২ জুলাই একই স্পারের অগ্রভাগের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে। এবার ভাঙন ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার ফলে নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে স্পারে আঘাত হানায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।গত দুই মাস ধরে নদীপাড়ের মানুষ প্রতিদিনই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দ শুনেই কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ সরাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলি ও ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা বসতভিটা, স্মৃতি আর স্বপ্ন ফেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হয় তাদের। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে শুরু হয় দুর্ভোগ। নদী একের পর এক গ্রাস করে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও মানুষের জীবিকার শেষ সম্বল।নদীপাড়ের অনেক পরিবারের এখন একমাত্র চিন্তা—মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে উঠছেন, কেউ বাঁধের ওপর কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট যেন ভাষায় প্রকাশ করার নয়। যে উঠোনে ছিল শিশুদের হাসি-কান্না, যে আঙিনায় জড়িয়ে আছে জীবনের অসংখ্য স্মৃতি, সেটিই এখন যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।স্থানীয়দের আশঙ্কা, একইভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে হুমকির মুখে পড়বে এবং হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। কারণ একটি ঘর ভেঙে গেলে শুধু ইট, কাঠ বা টিন হারায় না, হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অবলম্বন।বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, "শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট, বগুড়া
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি