ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আর এন টিভি বিডি

ফুটবলারদের যন্ত্রণার এক করুণ বাস্তবতা


প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফুটবলারদের যন্ত্রণার এক করুণ বাস্তবতা
ইনজুরির কারণে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলোয়াড়দের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু অনেকের জন্য সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় ইনজুরির কারণে। কারও জন্য সেটা প্রথম সুযোগ, কারও জন্য শেষ সুযোগ—আর কারও জন্য অধরা হয়ে থাকে পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে।

২০১৪ সালে জার্মানির তারকা ফুটবলার মার্কো রয়েস ছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২৩ গোল করে তিনি জায়গা করে নিতে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগের প্রস্তুতি ম্যাচে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে এক সাধারণ ট্যাকলে তার বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরি হয়। মুহূর্তেই তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। 

রয়েস পরে সে অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, আমি কিছুটা ম্যাচ দেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আপনি একজন ফ্যান হয়ে যান। এক চোখে কান্না, এক চোখে আনন্দ, কারণ দল ভালো খেলছিল।

তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন জার্মানি খেলছিল, তাকে দলের পক্ষ থেকে রিওতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি যাননি। পরে তার সতীর্থ মারিও গোতজে জয়ের পর রয়েসের নাম লেখা জার্সি নিয়ে উদযাপন করেন, যা রয়েস পরে জেনে আবেগাপ্লুত হন। 

রয়েসের মতো দুর্ভাগ্য শুধু তার একার নয়। ফুটবলে এমন অনেক বড় নাম আছেন যাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ইনজুরিতে ভেঙে গেছে। 

ইতালির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে যান। তিনি পরে বলেন, ‘আমি আমার জীবনের স্বপ্ন হারিয়েছিলাম। কিন্তু অন্তরে আমি দলের সাফল্যে আনন্দ পেয়েছি।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনশেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন সালাহর

ব্রাজিলের অধিনায়ক এমারসন ২০০২ বিশ্বকাপের আগে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্টই মিস করেন। একইভাবে করিম বেঞ্জেমা ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান পেশির ইনজুরিতে।  

ইংল্যান্ডের স্টিভেন জেরার্ড ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকেন। তিনি পরে লেখেন, বিশ্বকাপ মিস করার কষ্ট তাকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। 

ফ্রান্সের রবার্ট পিরেস ২০০২ বিশ্বকাপের আগে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট মিস করেন। ২০১০ বিশ্বকাপে আবারও দুর্ভাগ্য ছুঁয়ে যায় ফ্রান্স দলকে, যেখানে লাসানা দিয়ারা অসুস্থতার কারণে বাদ পড়েন।

নেদারল্যান্ডসের রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট এবং স্পেনের কোচ থেকে কিংবদন্তি হওয়া পেপ গার্দিওয়লাও বিশ্বকাপ মিস করেছেন ইনজুরির কারণে।

বিশ্বকাপ মিস করা শুধু খেলোয়াড়দের মাঠের লড়াই নয়, মানসিকভাবেও বড় আঘাত। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে মার্কিন ডিফেন্ডার কোরি গিবস বলেন, ইনজুরির খবর শোনার পর তার প্রথম ভাবনা ছিল—‘আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমি বিশ্বকাপ মিস করছি। এটা ছিল ভীষণ হতাশার। এটা একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন।’

কখনও কখনও সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইতালির কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এবং ব্রাজিলের রোমারিওর মতো খেলোয়াড়দের নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল ইনজুরির কারণে নির্বাচন নিয়ে।

জার্মানির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল বালাক ২০১০ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়ে বাদ পড়েন। তার অনুপস্থিতিতেই জার্মানি তরুণ দল নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। 

এ সব গল্প একটাই বাস্তবতা দেখায়—বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটা ভাগ্যেরও খেলা। একজন খেলোয়াড় সারা জীবন যে মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে, তা এক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যেতে পারে। 

তবুও মার্কো রয়েসের কথাই অনেকের জন্য আশার বার্তা হয়ে থাকে—ইনজুরি থামাতে পারে স্বপ্ন, কিন্তু ভবিষ্যতের লড়াই থামাতে পারে না।

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

আর এন টিভি বিডি

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ফুটবলারদের যন্ত্রণার এক করুণ বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলোয়াড়দের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু অনেকের জন্য সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় ইনজুরির কারণে। কারও জন্য সেটা প্রথম সুযোগ, কারও জন্য শেষ সুযোগ—আর কারও জন্য অধরা হয়ে থাকে পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে।

২০১৪ সালে জার্মানির তারকা ফুটবলার মার্কো রয়েস ছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২৩ গোল করে তিনি জায়গা করে নিতে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগের প্রস্তুতি ম্যাচে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে এক সাধারণ ট্যাকলে তার বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরি হয়। মুহূর্তেই তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। 

রয়েস পরে সে অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, আমি কিছুটা ম্যাচ দেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আপনি একজন ফ্যান হয়ে যান। এক চোখে কান্না, এক চোখে আনন্দ, কারণ দল ভালো খেলছিল।

তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন জার্মানি খেলছিল, তাকে দলের পক্ষ থেকে রিওতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি যাননি। পরে তার সতীর্থ মারিও গোতজে জয়ের পর রয়েসের নাম লেখা জার্সি নিয়ে উদযাপন করেন, যা রয়েস পরে জেনে আবেগাপ্লুত হন। 

রয়েসের মতো দুর্ভাগ্য শুধু তার একার নয়। ফুটবলে এমন অনেক বড় নাম আছেন যাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ইনজুরিতে ভেঙে গেছে। 

ইতালির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে যান। তিনি পরে বলেন, ‘আমি আমার জীবনের স্বপ্ন হারিয়েছিলাম। কিন্তু অন্তরে আমি দলের সাফল্যে আনন্দ পেয়েছি।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনশেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন সালাহর

ব্রাজিলের অধিনায়ক এমারসন ২০০২ বিশ্বকাপের আগে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্টই মিস করেন। একইভাবে করিম বেঞ্জেমা ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান পেশির ইনজুরিতে।  

ইংল্যান্ডের স্টিভেন জেরার্ড ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকেন। তিনি পরে লেখেন, বিশ্বকাপ মিস করার কষ্ট তাকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। 

ফ্রান্সের রবার্ট পিরেস ২০০২ বিশ্বকাপের আগে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট মিস করেন। ২০১০ বিশ্বকাপে আবারও দুর্ভাগ্য ছুঁয়ে যায় ফ্রান্স দলকে, যেখানে লাসানা দিয়ারা অসুস্থতার কারণে বাদ পড়েন।

নেদারল্যান্ডসের রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট এবং স্পেনের কোচ থেকে কিংবদন্তি হওয়া পেপ গার্দিওয়লাও বিশ্বকাপ মিস করেছেন ইনজুরির কারণে।

বিশ্বকাপ মিস করা শুধু খেলোয়াড়দের মাঠের লড়াই নয়, মানসিকভাবেও বড় আঘাত। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে মার্কিন ডিফেন্ডার কোরি গিবস বলেন, ইনজুরির খবর শোনার পর তার প্রথম ভাবনা ছিল—‘আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমি বিশ্বকাপ মিস করছি। এটা ছিল ভীষণ হতাশার। এটা একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন।’

কখনও কখনও সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইতালির কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এবং ব্রাজিলের রোমারিওর মতো খেলোয়াড়দের নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল ইনজুরির কারণে নির্বাচন নিয়ে।

জার্মানির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল বালাক ২০১০ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়ে বাদ পড়েন। তার অনুপস্থিতিতেই জার্মানি তরুণ দল নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। 

এ সব গল্প একটাই বাস্তবতা দেখায়—বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটা ভাগ্যেরও খেলা। একজন খেলোয়াড় সারা জীবন যে মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে, তা এক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যেতে পারে। 

তবুও মার্কো রয়েসের কথাই অনেকের জন্য আশার বার্তা হয়ে থাকে—ইনজুরি থামাতে পারে স্বপ্ন, কিন্তু ভবিষ্যতের লড়াই থামাতে পারে না।


আর এন টিভি বিডি

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ নাঈম সরকার রিফাত
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি
ফুটবলারদের যন্ত্রণার এক করুণ বাস্তবতা
0:00 0:00
1.0x