ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আর এন টিভি বিডি

অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, উদ্বেগে অভিভাবক দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে বাড়ছে আসক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ


প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, উদ্বেগে অভিভাবক  দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে বাড়ছে আসক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | মোঃ নাঈম সরকার রিফাত

দাউদকান্দি, কুমিল্লা | ৭ জুন ২০২৬

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলাতেও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইট, ক্যাসিনো অ্যাপ এবং খেলাধুলাভিত্তিক বাজির মাধ্যমে অনেকেই দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্ত হচ্ছেন। প্রথমদিকে কিছু লাভের অভিজ্ঞতা পেলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারে দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা, ঋণের বোঝা এবং পারিবারিক কলহ।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর আসক্তিমূলক প্রভাব। একবার কেউ এতে জড়িয়ে পড়লে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। হারানো অর্থ পুনরুদ্ধারের আশায় বারবার অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও পরিবার সবসময় তাদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমস কিংবা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের আড়ালে কিছু তরুণ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি নৈতিক অবক্ষয়, মানসিক চাপ এবং সামাজিক অস্থিরতারও অন্যতম কারণ। তারা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করাই হতে পারে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতার বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্টকাট পথে সফলতার কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম, শিক্ষা, দক্ষতা এবং সততার মাধ্যমেই টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব। অনলাইন জুয়ার প্রলোভন থেকে দূরে থেকে প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আর এন টিভি বিডি

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, উদ্বেগে অভিভাবক দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে বাড়ছে আসক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক | মোঃ নাঈম সরকার রিফাত

দাউদকান্দি, কুমিল্লা | ৭ জুন ২০২৬

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলাতেও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইট, ক্যাসিনো অ্যাপ এবং খেলাধুলাভিত্তিক বাজির মাধ্যমে অনেকেই দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্ত হচ্ছেন। প্রথমদিকে কিছু লাভের অভিজ্ঞতা পেলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারে দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা, ঋণের বোঝা এবং পারিবারিক কলহ।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর আসক্তিমূলক প্রভাব। একবার কেউ এতে জড়িয়ে পড়লে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। হারানো অর্থ পুনরুদ্ধারের আশায় বারবার অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও পরিবার সবসময় তাদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমস কিংবা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের আড়ালে কিছু তরুণ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি নৈতিক অবক্ষয়, মানসিক চাপ এবং সামাজিক অস্থিরতারও অন্যতম কারণ। তারা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করাই হতে পারে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতার বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্টকাট পথে সফলতার কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম, শিক্ষা, দক্ষতা এবং সততার মাধ্যমেই টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব। অনলাইন জুয়ার প্রলোভন থেকে দূরে থেকে প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


আর এন টিভি বিডি

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ নাঈম সরকার রিফাত
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি
অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, উদ্বেগে অভিভাবক দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে বাড়ছে আসক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ
0:00 0:00
1.0x