মো: সাব্বির হোসেনদিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিতরণ করা চারার মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সারা দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতাধীন প্রকল্পে চিরিরবন্দরের প্রায় সরকারী স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে বিতরণকৃত ২২শত ৬০টি আম,জাম,কাঠাল সহ বিভিন্ন ফলজ চারা গাছ ছোট, নিম্নমানের ও রূগ্ন বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। ঐ প্রকল্পে চারাগাছের সাথে সার ও খুটি বরাদ্দ দেওয়া সত্বেও চারাগাছ ছোট, রুগ্ন হওয়ার কারণে রোপণকৃত দুই-তৃতীয়াংশ চারাই মারা গেছে।অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিতরণ করা চারাগুলো এতটাই ছোট নিম্নমানের ছিল যে ভালো জায়গায় রোপণের পরও কয়েকদিনের মধ্যে মারা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায় রোপণকৃত দুই-তৃতীয়াংশ চারাই মারা গেছে, কিছু গাছে খুটি আছে কিছু গাছে কোন খুটিই নাই। আবার বেশকটি স্কুলে চারাগাছ মারা যাওয়ায় দেখা মেলেনি মৃত গাছ/খুঁটির।কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো এত ছোট ও খরাপ ছিল যে ভালো জায়গায় লাগানোর পর মারা গেছে,আমি ভালো জায়গায় লাগিয়েছিলাম গাছগুলো। আমি ৫টি চারাগাছ পেয়েছিলাম।"একই অভিযোগ করেন উচিৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মমিন ইসলাম। তিনি বলেন, " কৃষি অফিস থেকে আমি ৫টি চারাগাছ পেয়েছি যার মধ্যে ৩টি মারা চারাগুলো লাগানোর কয়েকদিন পরেই মারা যায়।"তবে এর ব্যতিক্রমও আছে খেড়কাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম বলেন, "কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো আমাদেরকে ভালোই দিয়েছে।"অন্যদিকে বিঝট্রি উন্নয়ন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো এত ছোট ছিল যে আমি সেগুলো নেইনি, ।"নিম্নমানের চারা বিতরণের বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানার কাছে নিম্নমানের রূগ্ন চারাগাছ বিতরণ বিষয়ে ও ২২শত ৬০টি চারাগাছ রোপণ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এটি একটি চলমান প্রকল্প আমরা আপনার অভিযোগটি মানতে পারছি না, চারাগুলো আমি একাই বিতরণ করি নাই। উপজেলা কমিটি সহ আমরা ভালো মানের চারা,সার ও খুটি বিতরণ করেছি। বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে লিখিত আবেদন দেন তাহলে পাবেন"।ছোট,নিম্ন ও রুগ্ন চারাগাছ বিতরণের বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তূজ জোহরা বলেন, "আমরা ১৯৮টি বিদ্যালয়ে চারাগাছ বিতরণ করেছি এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এরকম আভিযোগ আসে নাই, যদি কোন চারাগাছ মরে যায় তাহলে আমরা সেই গাছ রিপ্লেস করে দিবো ।"
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।