প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার রাজধানী থেকে একযোগে দেশের দু’টি বড় জাতীয় কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাল সোমবার দুপুর ২টায় প্রথমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করবেন এবং মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।’
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংশোধিত আদেশে অনুষ্ঠানের সূচি পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ উদ্ভাবকদের স্টলগুলো পরিদর্শন, চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং একই মঞ্চ থেকে একযোগে দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে দেশের ‘ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের’ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচি দু’টি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
মাউশি মহাপরিচালক জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাই। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়াগুলো থেকে স্থানীয় অনেক সমস্যা স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা সম্ভব হবে। একইসাথে স্টার্টআপের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ উন্মোচিত হবে।
আদেশে বলা হয়, বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানটির সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার শেরেবাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ জাতীয় পর্যায়ের এই মূল অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টার পরিবর্তে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে আজ দুপুর থেকেই চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’র স্টলগুলো সবার পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। দেশব্যাপী উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দলের অনন্য ও সৃজনশীল প্রজেক্টগুলো এই স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে।
আয়োজনটি সফল করতে আজ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ভ্যেনু ও প্রদর্শনী স্টলগুলো পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’র আওতায় শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে (প্রতি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক) গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলায় সফলভাবে এই শোকেসিং সম্পন্ন হয়, যেখানে ৮ হাজার ২৯টি দলে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশ নেন।
পরবর্তীকালে গত ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা: জুবাইদা রহমান।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত দেশের সেরা ১০০টি দল আগামীকাল মূল অনুষ্ঠানে তাদের সৃজনশীল প্রজেক্ট উপস্থাপন করবে। এর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষাঙ্গণে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাএকই ভ্যেনু থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদরাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ৫ হাজার টাকা করে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকালের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণে অংশ নেবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের অনন্য সুযোগ পাবেন। এ উপলক্ষে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন স্থাপন এবং বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। সূত্র : বাসস