হাসপাতাল চালু ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের অষ্টম দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কলেজের এই অচলাবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ক্লাস বর্জন করে গেটে ‘শাটডাউন’ বোর্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীকে একাডেমিক ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আন্দোলনের সংগঠক শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব জানান, আগামী মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে মন্ত্রী বসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘চলছে লড়াই, চলবে’, ‘হাসপাতাল চালু চাই’, ‘হাসপাতালের অবহেলা মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। সকালে যথারীতি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া এবং অন্যান্য শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শীঘ্রই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিটিং হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যার বলেছেন, ওরা (শিক্ষার্থী) কবে ও কয়জন আসতে চায় আমাদের জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, যত শীঘ্রই সম্ভব আমরা উনার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) সাথে কথা বলতে চাই।
এ সময় আগামী মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা জানাতে অধিদপ্তরের ডিজি কথা বলবেন বলে জানানো হয়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম শাটডাউন ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লকেড তুলে নেওয়ার কথা বললে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এর আগেও আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, আমাদের হতাশ হতে হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
একপর্যায়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত করা ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে গত রোববার (২১ জুন) থেকে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।