ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
আর এন টিভি বিডি

Nayeem Sarkar Rifat

মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার


প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আলোচনার ঝড়, তদন্তে নেমেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম সরকার রিফাত

প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় আলোচিত মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বহুল আলোচিত ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারীকেও প্রত্যাহার করা হয়। ধারাবাহিক এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান কর্মস্থল ত্যাগ করে পুলিশ লাইন্সে যোগদান করেন। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) রাত প্রায় ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজার আগে ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নাইট ডিউটির দায়িত্বে ছিলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান।

পরবর্তীতে ঘটনাটি ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের একটি অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ তিনজন মাদক কারবারির কাছে ধাপে ধাপে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রথমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারীকেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর একই ঘটনার প্রেক্ষিতে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের ক্লোজড (সিসি) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।”

তবে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, প্রত্যাহার মানেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী দায়িত্বে যোগদান করবেন।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দাউদকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ।

বিষয় : কুমিল্লা দাউদকান্দি নিউজ নেশা জাতীয় প্রোডাক্ট দুই পুলিশ প্রত্যাহার

আর এন টিভি বিডি

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার


১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আলোচনার ঝড়, তদন্তে নেমেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ


নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম সরকার রিফাত

প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬


কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় আলোচিত মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বহুল আলোচিত ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারীকেও প্রত্যাহার করা হয়। ধারাবাহিক এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান কর্মস্থল ত্যাগ করে পুলিশ লাইন্সে যোগদান করেন। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।


সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) রাত প্রায় ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজার আগে ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নাইট ডিউটির দায়িত্বে ছিলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান।


পরবর্তীতে ঘটনাটি ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের একটি অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ তিনজন মাদক কারবারির কাছে ধাপে ধাপে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা।


ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রথমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারীকেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর একই ঘটনার প্রেক্ষিতে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের ক্লোজড (সিসি) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।”


তবে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, প্রত্যাহার মানেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী দায়িত্বে যোগদান করবেন।


এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দাউদকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বর্তমানে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ।


আর এন টিভি বিডি

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ নাঈম সরকার রিফাত
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি
মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
0:00 0:00
1.0x