আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা, ভালো কাজের স্বীকৃতিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিনিধি | মোঃ নাঈম সরকার রিফাত
দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সদস্যদের নিয়ে মাসিক চৌকিদারি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) সকালে দাউদকান্দি মডেল থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ প্যারেডে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্যারেডে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ হলো পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী বাহিনী। গ্রামের প্রতিটি এলাকায় তাদের উপস্থিতি থাকায় যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ থাকে। তাই প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, জুয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে জানাতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও উৎসাহিত করা এবং মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করাই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি, নতুন আগন্তুক কিংবা অপরিচিত লোকজনের গতিবিধির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্যারেডে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা।
রাতের বেলায় পাহারা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা।
মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের তথ্য দ্রুত থানায় জানানো।
ইউনিয়নজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন যেকোনো তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জনসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।
প্যারেড শেষে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন থানার কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নানা অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।