ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
আর এন টিভি বিডি

RN TV

চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি


প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি
চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি

মো: সাব্বির হোসেন দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে একসময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। আপনজনদের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম আঘাতে আজ সেই মানুষটিই অন্যের সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে আছেন চিরিরবন্দর উপজেলার প্রমথ রায়।

চলাফেরার একমাত্র অবলম্বন একটি পুরোনো হুইলচেয়ার। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেটিও এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। কখনো সেটিতে বসে ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কখনো পুরোনো হুইলচেয়ারটির দিকে তাকিয়েই কাটে তাঁর অসহায় সময়।

প্রমথ রায়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসার ব্যয়, ওষুধপত্র ও সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই পরিবারটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন একটি হুইলচেয়ার কেনা তাদের কাছে যেন বিলাসিতার মতো।

প্রমথ রায়ের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী আগে কত কাজ করতেন, নিজের পায়ে চলতেন। এখন তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে গেলেও কষ্ট হয়। হুইলচেয়ারটাও নষ্ট হয়ে গেছে। একটি ভালো হুইলচেয়ার পেলে অন্তত তাকে একটু স্বস্তি দিতে পারতাম।”

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রমথ রায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট শুধু চলাফেরা করতে না পারা নয় নিজের প্রয়োজনেও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তিনি।

একটি হুইলচেয়ার হয়তো কারও কাছে সামান্য একটি সহায়তা। কিন্তু প্রমথ রায়ের কাছে সেটিই হতে পারে ঘরের চার দেয়ালের বাইরে আবার একটু স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সুযোগ, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সহজ পথ এবং নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো কিছুটা হলেও নিজে করার স্বাধীনতা।

তাই সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সহানুভূতিশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অসহায় পরিবারটির আকুল আবেদন প্রমথ রায়ের পাশে দাঁড়ান। একটি হুইলচেয়ার দিয়ে তাঁর চলার পথটি একটু সহজ করে দিন।

আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একজন অসহায় মানুষের মুখে ফিরিয়ে দিতে পারে স্বস্তির হাসি। দিতে পারে ঘরের বন্দিদশা থেকে কিছুটা মুক্তির সুযোগ।

মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিন প্রমথ রায়ের চলার পথটি একটু সহজ হোক।

বিষয় : চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা—প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

আর এন টিভি বিডি

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



মো: সাব্বির হোসেন দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 


দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে একসময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। আপনজনদের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম আঘাতে আজ সেই মানুষটিই অন্যের সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে আছেন চিরিরবন্দর উপজেলার প্রমথ রায়।


চলাফেরার একমাত্র অবলম্বন একটি পুরোনো হুইলচেয়ার। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেটিও এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। কখনো সেটিতে বসে ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কখনো পুরোনো হুইলচেয়ারটির দিকে তাকিয়েই কাটে তাঁর অসহায় সময়।


প্রমথ রায়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসার ব্যয়, ওষুধপত্র ও সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই পরিবারটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন একটি হুইলচেয়ার কেনা তাদের কাছে যেন বিলাসিতার মতো।


প্রমথ রায়ের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী আগে কত কাজ করতেন, নিজের পায়ে চলতেন। এখন তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে গেলেও কষ্ট হয়। হুইলচেয়ারটাও নষ্ট হয়ে গেছে। একটি ভালো হুইলচেয়ার পেলে অন্তত তাকে একটু স্বস্তি দিতে পারতাম।”


স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রমথ রায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট শুধু চলাফেরা করতে না পারা নয় নিজের প্রয়োজনেও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তিনি।


একটি হুইলচেয়ার হয়তো কারও কাছে সামান্য একটি সহায়তা। কিন্তু প্রমথ রায়ের কাছে সেটিই হতে পারে ঘরের চার দেয়ালের বাইরে আবার একটু স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সুযোগ, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সহজ পথ এবং নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো কিছুটা হলেও নিজে করার স্বাধীনতা।


তাই সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সহানুভূতিশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অসহায় পরিবারটির আকুল আবেদন প্রমথ রায়ের পাশে দাঁড়ান। একটি হুইলচেয়ার দিয়ে তাঁর চলার পথটি একটু সহজ করে দিন।


আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একজন অসহায় মানুষের মুখে ফিরিয়ে দিতে পারে স্বস্তির হাসি। দিতে পারে ঘরের বন্দিদশা থেকে কিছুটা মুক্তির সুযোগ।


মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিন প্রমথ রায়ের চলার পথটি একটু সহজ হোক।


আর এন টিভি বিডি

আপনার প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, পণ্য বা সেবার প্রচারের জন্য RN TV-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর এন টিভি
চিরিরবন্দরে হাঁটার শক্তি নেই, পুরোনো হুইলচেয়ারই শেষ ভরসা প্রমথ রায়ের চোখে নতুন করে বাঁচার আকুতি
0:00 0:00
1.0x