ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দাউদকান্দিতে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি: রজত সাহাদাউদকান্দি (কুমিল্লা):ঐতিহ্য, বিশ্বাস আর ভক্তিসুধা একীভূত হয়েছিল একই স্রোতে। পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উদ্দীপনা এবং উপচে পড়া ভক্তসমাগমের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিওর আখড়ায় অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘উল্টো রথযাত্রা’।রথটানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সপ্তাহব্যাপী চলা এই মহাপর্বের। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রথযাত্রার পদধ্বনিই জানান দেয় মা দুর্গার আগমনী বার্তা। রথ নামলেই যেন ঢাকের কাঠি পড়ার দিন গুনে সনাতন সম্প্রদায়—শুরু হয়ে যায় বিশ্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক-প্রস্তুতি।ভক্তের মহামিলন ও মহাপ্রসাদ বিতরণঐতিহাসিক গোপীনাথ জিওর আখড়ায় সকাল থেকেই ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আখড়া প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল সব বয়সের হাজারো মানুষের মিলনমেলায়। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর কাসর-ঘণ্টার শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, সুভদ্রা ও বলরাম জিউর কৃপা লাভের আশায় হাজার হাজার ভক্ত 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনিতে রথের রশি টানেন।উৎসবে আসা প্রতিটি ভক্ত ও দর্শনার্থীর জন্য মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ছিল মহাপ্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উপস্থিত সকল পুণ্যার্থী সুশৃঙ্খলভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন।সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাউৎসবের সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক নজরদারি এবং পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের কারণে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা রথযাত্রায় অংশ নিতে পেরেছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সহযোগিতাকে মন্দির কমিটি এবং স্থানীয় সনাতন সমাজ বিশেষভাবে সাধুবাদ জানিয়েছে।ঐতিহ্য ও ইতিহাসদাউদকান্দির শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিওর আখড়ার রথযাত্রার রয়েছে দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। যুগে যুগে এই আখড়াটি অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন ভাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক।উৎসব শেষে জগন্নাথ দেব নিজ ধামে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে সমাপনী ঘটে এই মহোৎসবের। সেই সাথে ভক্ত মনে রেখে যায় এক নতুন প্রতীক্ষা—সামনেই আসছে মা দুর্গার আগমনী মহালয়া।