ঢাকা    শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
আর এন টিভি বিডি

নদীতে ভেসে উঠল আরও এক লাশ, রায়পুরায় সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা নামে আরেকজনের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামসংলগ্ন নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নিহত লতিফ মোল্লা (৩২) রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার সংসারে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছে। মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক (২০) নামের একজন, পর দিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন এবং আজ লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিস্টার) ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইপক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), মোস্তফা মিয়াসহ (৬০) অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। পরে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় নিলক্ষা ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিখোঁজ কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে উঠে। পরে সন্ধ্যায় মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা নৌকায় করে লাশটি তীরে টেনে আনেন। খবর পেয়ে লতিফ মোল্লার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, নিলক্ষায় দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ আটক নেই। আসামি গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

নদীতে ভেসে উঠল আরও এক লাশ, রায়পুরায় সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩