মির্জাপুরে রাস্তার কাজে অনিয়ম, বিল আটকে দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন
মো. জয় সরকারস্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে বিল আটকে দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন। রবিবার (৫ জুলাই ২৬) তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে লিখিত ভাবে বিল আটকে দেওয়া সহ কাজের তদারকির সাথে জড়িত উপ সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে লিখিত ভাবে শোকজ করেন।সরেজমিনে দেখা যায় যে, ঢাকা টাংগাইল মহাসড়ক থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানির ঢলে রাস্তার পুরাতন ড্রেন ওভারফ্লো হয়ে রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ আলগা হয়ে যায়। কোথাও হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে, আবার যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে আসছে পিচ। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে অনিয়মের কারণেই নতুন সড়কের এমন বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। কাদার উপর সামান্য খোয়া ও বালি দিয়ে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করা হয়েছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেই কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত রাস্তার কাজে ৪৬০ মিটার সড়কটির পুনর্নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের গোড়াই থেকে রাকের টেকি পর্যন্ত সড়কের পুন-র্নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় বৃষ্টিতেই উঠে যেতে শুরু করেছে নতুন পিচ। কোথাও হাত দিলেই উঠে আসছে কার্পেটিং, আবার যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে যাচ্ছিল পিচ। এতে নতুন সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।অনিয়ম এর বিষয় জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন উক্ত সাইট পরিদর্শন করেন এবং ঠিকাদার এর সকল বিল আটকে দেন। এছাড়া উক্ত কাজের তদারকির কাজে নিয়োজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে লিখিত ভাবে শোকজ করেন।এব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরো জানান যে, ঠিকাদারকে কোনভাবেই কোন বিল প্রদান করা হবেনা এবং উক্ত রাস্তার সম্পূর্ণ কার্পেটিং ঠিকাদারকে করে দিতে হবে। ঠিকাদার কার্পেটিং পুনরায় না করলে তাকে আর্থিকভাবে জরিমানা করা সহ তাকে কালো তালিকা ভুক্ত করা হবে। সরকারি রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও জানান উপজেলা প্রকৌশলী।