পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। তবে এই মুহূর্তে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা ইসলামাবাদ চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশ নতুন করে আলোচনায় বসেছে। পরবর্তী ধাপের আলোচনা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে:
ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা।
ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি।
লেবানন পরিস্থিতির উত্তরণ।
এই বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে পর্যালোচনার জন্য উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিনটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, সমঝোতা প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দিতে পক্ষগুলোর জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনায় বসতে সক্ষম হয়েছে, যার নেপথ্যে পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল। ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো গোপন সমঝোতা নয়, বরং লিখিত ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র মাধ্যমেই এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক মজুত কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক মিলে ‘আর-৪ ফোরাম’ নামক একটি নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, বরং প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি যৌথ মঞ্চ, যা লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকাকে সংযুক্ত করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই এই সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংকট নিরসনে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।